কিভাবে চিনবেন সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের ?
সিজোফ্রেনিয়া। এক ভয়াবহ মানসিক ব্যাধির নাম। আমাদের দেশে প্রাথমিক অবস্থায় কেউ খুব একটা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় না রোগটিকে। তবে শুরুর দিকে বিশেষ পাত্তা না দিলে, ভবিষ্যতে হিতে বিপরীত হয়ে যায় সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের। সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সারা পৃথিবীতে শুধুমাত্র সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটির বেশি। এই প্রসঙ্গে একটা কথা জানিয়ে রাখা দরকার যে, সিজোফ্রেনিয়া রোগীরা কিন্তু বহুক্ষেত্রেই অবহেলার শিকার।
২০-৪৫ বছরের কিশোর-কিশোরী, পুরুষ-মহিলা, যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। যদি বাবা কিংবা মা- কোনও একজনের সিজোফ্রেনিয়া থাকে তবে সন্তানের এই অসুখে আক্রান্তের প্রবণতা থাকে ১২ শতাংশ। যদি দেখা যায় মা-বাবা দুজনেই আক্রান্ত তবে সন্তানের হওয়ার সম্ভাবনা ৪০-৪৫ শতাংশ। তাই সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পেছনে জিনঘটিত কারণ যেমন দায়ী, ঠিক তেমনভাবেই বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরে ডোপামিন হরমোনের তারতম্যের জন্যও এই সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও, পারিবারিক অশান্তি, বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে কোনও কারণে মনে অতিরিক্ত চাপ, মানসিক আঘাত-এই সবকিছুই সিজোফ্রেনিয়ার জন্য দায়ী। তাই প্রাথমিক অবস্থায় নিজে মনে কথা বলা, হাসা বা অল্পতেই রেগে যাওয়ার মত লক্ষণগুলোকে সাধারণ ব্যাপার মনে হলেও, কিছুদিন পর মন খারাপ বা সন্দেহবাতিক প্রবণতা দেখা দিলে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের চিনে নেওয়া সম্ভব ? সিজোফ্রেনিয়া রোগের প্রধান লক্ষণগুলি মূলত ৩ ভাবে প্রকাশ পায়—
• চিন্তার মধ্যে অসংলগ্নতা : ১) মনে অযথা সন্দেহ- তারা ভাবতে থাকেন সবাই তাকে নিয়ে মজা করছে, সমালোচনা করছে কিংবা অদ্ভুত ভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। ২) ভুল জিনিসে দৃঢ় বিশ্বাস - সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা অবাস্তব জিনিসকে সত্য ভাবতে থাকেন।
• আচরনগত সমস্যা:— ১) হঠাত করেই জোরে হেসে ফেলা কিংবা অকারণে কাঁদতে শুরু করা। ২) আচমকই অতিরিক্ত রেগে যাওয়া বা উত্তেজিত হয়ে পড়া। ৩) একেবারেই মানুষের সঙ্গে মিশতে না চাওয়া। ৪) অকারণে আত্মহত্যার প্রবণতা। ৫) জনসমক্ষে জামাকাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা।
• অনুভূতি বিষয়ক সমস্যা:— ১) কেউ তার সঙ্গে কথা না বললেও, মনে হতে পারে কেউ যেন তার সঙ্গেই কথা-বার্তা বলছে। ২) বিশেষ কোনও কিছুর গন্ধ পেতে থাকা, যদিও সেই গন্ধ অন্যেরা কেউই পাচ্ছেন না। ৩) গায়ে পোকামাকড়ের হাঁটার অনুভূতি হয়। বিশেষজ্ঞদের কথায়, সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে ছেলেখেলা নয়। এই অসুখের ওষুধ রয়েছে। তাতেই একমাত্র কাজ হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সাইকো থেরাপি বা কাউন্সেলিংয়ে এই অসুখ সারিয়ে তোলার সুযোগ কম।





